Wednesday, May 3, 2017

যে ৩টি খাবার আপনার লিভারকে সুস্থ রাখবে



রসুন

লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য উত্তম খাবার হল রসুন। রসুনের এনজাইম লিভারের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান পরিষ্কার করে। এতে আছে আছে আরও দুটি উপাদান যার নাম এলিসিন এবং সেলেনিয়াম যা লিভার পরিষ্কার রাখে এবং ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান হতে রক্ষা করে।
  • ১। প্রতিদিন যে কোন সময় ২/৩ টি রসুনের কোয়া খেয়ে নিন।
  • ২। আপনি চাইলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রসুন দিয়ে তৈরি ভিটামিনও খেতে পারেন।



লেবু

লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দেহের লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ডি লিমনেন উপাদান লিভারে এনজাইম সক্রিয় করে। তাছাড়া লেবুর ভিটামিন সি লিভারে বেশি করে এনজাইম তৈরি করে যা হজম শক্তির জন্য উপযোগী। লেবুর মিনারেল লিভারের নানান পুষ্টি উপাদানগুলো শোষণ করার শক্তি বৃদ্ধি করে। বাসায় লেবুপানি পান করুন এবং যেকোন সময় পানের জন্য লেবুপানি বানিয়ে রাখুন। প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন, চাইলে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন।


আপেল

প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খেলে তা লিভারকে সুস্থ রাখে। আপেলের পেক্টিন, ফাইবার দেহের পরিপাক নালী হতে টক্সিন ও রক্ত হতে কোলেস্টরোল দূর করে এবং সাথে সাথে লিভারকেও সুস্থ রাখে। আপেলে আছে আরও কিছু উপাদান- ম্যালিক এসিড যা প্রাকৃতিক ভাবেই রক্ত হতে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে। যেকোন ধরণের আপেলই দেহের লিভারের জন্য ভালো। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খান।

জেনে নিন আপেলের যত উপকারিতা


আমরা জানি, আপেলের অনেক গুণ; এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, এন এ্যাপেল আ ডে কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে। অর্থ, নিয়মিত আপেল খেলে চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না। আসলেই কি তাই! সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন এ নিয়ে একটি গবেষণা চালিয়েছে।
আপেলে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং ,ই। এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইটোনিউট্রিএন্টস। এটি হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়, যে ফলগুলো ক্রিসপি জাতীয় হয় সেগুলো খাওয়া দাঁতের জন্য ভালো; এগুলো দাঁত পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া রোধে কাজ করে।
আপেল সব রোগ ভালো করে দেয় না বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও বন্ধ করে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, আপেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। এর ফলে রোগ হলেও ওষুধ কম ব্যবহার করতে হয়। মানে, সব রোগের চিকিৎসা আপেলে সম্ভব না হলেও এটি কম ওষুধ সেবনে সাহায্য করে।
ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশনের চালানো (২০০৭ থেকে ২০০৮ এবং ২০০৯ থেকে ২০১০) জরিপগুলো পর্যালোচনা করেছেন গবেষকরা। সেখানে আট হাজার ৩৯৯ জরিপে অংশগ্রহণকারীর মধ্যে কিছু প্রশ্ন করা হয়। এদের মধ্যে ৭৫৩ জন (৯ শতাংশ) প্রতিদিন আপেল খেত এবং সাত হাজার ৬৪৬ জন আপেল খায়নি।

সেই জরিপ থেকে গবেষকরা জানতে পারেন, যারা নিয়মিত আপেল খায় এবং যারা নিয়মিত আপেল খায় না তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি।
তবে যারা নিয়মিত আপেল খায় তারা একেবারেই রোগে ভোগে না বলা না গেলেও তারা রোগে কম ভোগে এবং ওষুধ কম লাগে। গবেষকদের মতে, প্রবাদটি তাই এমন হতে পারে, প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়া চিকিৎসকদের কাছ থেকে নয় বরং ওষুধ থেকে দূরে রাখে।


জেনে রাখুন তেতো করল্লার বহুমুখী গুণাবলী



মেন্যুতে তেতো খাবারের কথা শুনলেই আমাদের মুখ শুকিয়ে যায়। টক, ঝাল, মিষ্টির মতো ডায়েটে তেতো রাখাও কিন্তু জরুরী। তেতো খাবারের মাঝে করল্লা কিন্তু আমাদের দেহের জন্য খুবই উপকারী। তেতো বলে অনেকেই এই সবজিটি খেতে ভালোবাসেন না


করল্লার তেতো ভাব কমাতে রান্না করার আগে কিছুক্ষণ লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। আজ তাহলে করল্লার গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে রাখুন, তাতে হয়তো পরবর্তীতে তেতো খাওয়ার সময় খারাপ লাগবে না!


কী কী রয়েছে করল্লায়?

– প্রচুর পরিমানে আয়রণ রয়েছে। আয়রণ হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে।
– করল্লায় যথেষ্ট পরিমানে বিটা ক্যারোটিন আছে। এমনকি ব্রকলি থেকেও দ্বিগুণ পরিমানে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এতে। দৃষ্টি শক্তি ভাল রাখতে ও চোখের সমস্যা সমাধানে বিটা ক্যারোটিন উপকারী।
– পালংশাকের দ্বিগুণ ক্যালসিয়াম ও কলার দ্বিগুণ পরিমান পটাশিয়াম করল্লায় রয়েছে। দাঁত ও হাড় ভাল রাখার জন্য ক্যালসিয়াম জরুরী। ব্লাড প্রেশার মেনটেন করার জন্য ও হার্ট ভাল রাখার জন্য পটাশিয়াম প্রয়োজন।
– করল্লায় যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন-সি রয়েছে। ভিটামিন সি ত্বক ও চুলের জন্য একান্ত জরুরী। ভিটামিন সি আমাদের দেহে প্রোটিন ও আয়রন যোগায় এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধক ক্ষমতা গড়ে তোলে।
– ফাইবার সমৃদ্ধ করল্লা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা কমায়।
– করল্লায় রয়েছে ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, ফলিক এসিড, জিঙ্ক, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম। অসুখ নিরাময়ে সাহায্য করে।
– ডায়বেটিসের পেশেন্টের ডায়েটে করল্লা রাখুন। করল্লায় রয়েছে পলিপেপটাইড পি, যা ব্লাড ও ইউরিন সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করল্লার রস ও করল্লা সিদ্ধ খেতে পারেন।
– নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম এর সমস্যায় করল্লা উপকারী। ব্লাড পিউরিফিকেশনে সাহায্য করে।
– স্কিন ডিজিজ ও ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে।

করল্লা পাতার রসের উপকারিতা:

– করল্লা পাতার রস খুবই উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে, নানা ধরনের ইনফেকশন থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। এনার্জি ও স্টেমিনা বাড়িয়ে তুলতেও করল্লা পাতার রস সাহায্য করে।
– অতিরিক্ত এলকোহল খাওয়ার অভ্যাস থেকে লিভার ড্যামেজড হলে , সে সমস্যায় করল্লা পাতার রস দারুন কাজে দেয়। শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন ফ্লাশ আউট করতে সাহায্য করে।
– কলেরা বা ডায়রিয়ার প্রথম পর্যায়ে উচ্ছে পাতার রস খেতে শুরু করলে ভাল। উচ্ছে পাতার রস, লেবুর রস ও পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে উপাকার হয়।
– ব্লাড ডিজঅর্ডার সমস্যায় লেবুর রস ও করল্লা পাতার রস মিশিয়ে খেতে পারেন।
– করল্লা পাতার রসে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস, ফেরেনজাইটিসের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
– সোরিয়াসিসের সমস্যা, ফাংগাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করা সম্ভভ হয়।

করল্লা সংরক্ষণের টিপস:

  • – ফ্রিজের ভেজিটেবল বাস্কেটে করল্লা রাখুন। বেশিদিন উচ্ছে ফেলে রাখবেন না। বাজার থেকে কেনার ৩-৪ দিনের মধ্যেই খেয়ে ফেলা ভাল।
  • – রুম টেম্পারেচারে অন্যান্য সবজির সঙ্গে করল্লা রাখলে পেকে গিয়ে হলুদ হয়ে যেতে পারে। করল্লা আলাদা রাখার চেষ্টা করুন।
  • – পরিষ্কার পানিতে করল্লা ভাল করে ধুয়ে রান্না করুন।

সতর্কতা:

  • – একদিনে অতিরিক্ত পরিমানে করল্লা খাবেন না। তলপেটে সামান্য ব্যথা হতে পারে।
  • – ডায়বেটিস পেশেন্টরা ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিন সারাদিনে কতটা পরিমাণে তেতো খেতে পারবেন। সুগারের ওষুধের সঙ্গে তেতোর ভারসাম্য বজায় রাখা দরকার।
  • – প্রেগনেন্ট মহিলারাও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করল্লার রস খাবেন।